কাস্টমস আইন ২০২৩
ষষ্ঠবিংশ অধ্যায় - আপিল এবং পুনরীক্ষণ
২২০। কমিশনার অব কাস্টমস (আপিল) এর নিকট আপিল
(১) কমিশনার অব কাস্টমস পদমর্যাদার নিম্নের কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক, ধারা ৯৪ অথবা ধারা ১১৯ এর অধীন প্রদত্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশ ব্যতীত, এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশ দ্বারা কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে, তিনি উক্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশ সম্পর্কে অবহিত হইবার তারিখ হইতে ৩ (তিন) মাসের মধ্যে কমিশনার অব কাস্টমস (আপিল) এর নিকট আপিল করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কমিশনার অব কাস্টমস (আপিল) যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আপিলকারী উপরি- উক্ত ৩ (তিন) মাস মেয়াদের মধ্যে আপিল দায়ের করা হইতে যুক্তিসঙ্গত কারণে বাধাপ্রাপ্ত হইয়াছেন, তাহা হইলে তিনি পরবর্তী ২ (দুই) মাস অতিরিক্ত মেয়াদের মধ্যে আপিল দায়ের করিবার জন্য অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) এই ধারার অধীন প্রত্যেক আপিল, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপিলের ভিত্তিসমূহ উল্লেখপূর্বক, প্রতিপাদন করিতে হইবে।
(৩) অন্য কোনো আদালতে গ্রহণযোগ্য হউক বা না হউক, কমিশনার অব কাস্টমস (আপিল), তদ্বিবেচনায় কার্যধারাকে সহায়তা করিতে পারে এইরূপ কোনো বিবৃতি, দলিল, তথ্য বা বিষয়কে, বিচার কার্যধারা চলাকালীন যে কোনো সময়ে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করিতে পারিবেন।
২২১। আপিলের পদ্ধতি
(১) আপিলকারী শুনানির ইচ্ছা ব্যক্ত করিলে কমিশনার অব কাস্টমস (আপিল) তাহাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিবেন।
(২) কোনো আপিলের শুনানিতে কমিশনার অব কাস্টমস (আপিল) আপিলের কারণসমূহে উল্লেখ করা হয় নাই এইরূপ কোনো কারণ আপিলকারীকে উল্লেখ করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন, যদি তিনি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, উক্ত কারণ আপিলের কারণসমূহ হইতে বাদ যাওয়া ইচ্ছাকৃত অথবা অযৌক্তিক ছিল না।
(৩) কমিশনার অব কাস্টমস (আপিল) যেরূপ প্রয়োজন হইতে পারে সেইরূপ অধিকতর তদন্ত করিয়া যে সিদ্ধান্ত বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হইয়াছে উহা বহাল রাখিয়া, পরিবর্তন করিয়া অথবা বাতিল করিয়া যেরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রস্তাবিত আদেশের বিরুদ্ধে আপিলকারীকে কারণ দর্শানোর যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান না করিয়া, জরিমানা বা বাজেয়াপ্তকরণের পরিবর্তে, জরিমানা বৃদ্ধি করিয়া অথবা অধিকতর মূল্যের পণ্য বাজেয়াপ্ত করিয়া অথবা ফেরতের ক্ষেত্রে অর্থ হ্রাস করিয়া কোনো আদেশ প্রদান করা যাইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, যে ক্ষেত্রে কমিশনার অব কাস্টমস (আপিল) এই অভিমত পোষণ করেন যে, কোনো শুল্ক ও কর আরোপ করা হয় নাই অথবা কম আরোপ করা হইয়াছে অথবা ভুলবশত ফেরত প্রদান করা হইয়াছে, সেই ক্ষেত্রে আপিলকারীকে প্রস্তাবিত আদেশের বিরুদ্ধে ধারা ১৯১ এ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান না করিয়া অনারোপিত, কম আরোপিত অথবা ভুলবশত ফেরত প্রদত্ত কোনো শুল্ক পরিশোধে বাধ্য করিয়া কোনো আদেশ প্রদান করা যাইবে না।
(৪) কমিশনার অব কাস্টমস (আপিল) এর আপিল নিষ্পত্তির আদেশ লিখিত হইবে এবং উহাতে বিচার্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং সিদ্ধান্তের জন্য যুক্তিসমূহ লিপিবদ্ধ থাকিবে।
(৫) আপিল নিষ্পত্তির পর কমিশনার অব কাস্টমস (আপিল) তদ্কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ আপিলকারী, ন্যায়নির্ণয়ন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কমিশনার অব কাস্টমসের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৬) আপিল প্রাপ্তির তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর সময়ের মধ্যে কমিশনার (আপিল) উহা নিষ্পত্তি করিবেন।
(৭) যদি উপ- ধারা (৬) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে কমিশনার (আপিল) আপিল নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হন, সেক্ষেত্রে বোর্ড কমিশনার (আপিল) এর আবেদনক্রমে উক্ত সময় অন্যূন ৬ (ছয়) মাস বর্ধিত করিতে পারিবেন।
(৮) উপ- ধারা (৭) অনুযায়ী বর্ধিত সময়সীমার মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি না হইলে, আপিলটি মঞ্জুর করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
২২২। বোর্ড কর্তৃক ভুল, ইত্যাদি সংশোধনের ক্ষমতা
বোর্ড এই আইন অথবা তদধীন প্রণীত বিধির কোনো বিধান অনুযায়ী প্রদত্ত কোনো আদেশের নথিপত্র হইতে দৃশ্যত প্রতীয়মান কোনো ভুল অথবা অশুদ্ধতা উক্ত আদেশ প্রদানের ১ (এক) বৎসরের মধ্যে স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া অথবা কোনো ব্যক্তির আবেদনক্রমে সংশোধন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, জরিমানা বৃদ্ধি করিতে অথবা অধিকতর পরিমাণ শুল্ক ও কর প্রদানে বাধ্য করিতে পারে এইরূপ কোনো সংশোধন, উক্ত সংশোধন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারে এইরূপ ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে অথবা তাহার নিকট হইতে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কৌঁসুলি বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া, করা যাইবে না।
২২৩। নিষ্পন্নাধীন আপিলের ক্ষেত্রে দাবিকৃত শুল্ক ও কর বা আরোপিত জরিমানা জমা
(১) কোনো ব্যক্তি, কাস্টমসের নিয়ন্ত্রণাধীনে নাই এইরূপ পণ্যের ক্ষেত্রে দাবি সম্পর্কিত কোনো সিদ্ধান্ত অথবা আদেশের বিরুদ্ধে অথবা এই আইনের অধীন আরোপিত কোনো জরিমানার বিরুদ্ধে ধারা ২২০ বা ধারা ২২৬ এর অধীনে আপিল করিবার অভিপ্রায় পোষণ করিলে তিনি আপিল দায়ের করিবার সময়ে অথবা আপিল কর্তৃপক্ষ তাহাকে অনুমতি প্রদান করিলে আপিলটি বিবেচনার পূর্বে যে কোনো পর্যায়ে দাবিকৃত ১[ শুল্ক ও করের ১০ (দশ) শতাংশ বা যেক্ষেত্রে শুল্ক ও কর প্রযোজ্য নয় সেক্ষেত্রে জরিমানার ১০ (দশ) শতাংশ ] যথাযথ কর্মকর্তার নিকট জমা প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি জরিমানার উপরি- উল্লিখিত সম্পূর্ণ পরিমাণ অর্থ জমা প্রদানের পরিবর্তে উহার ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশ জমা প্রদান করিতে এবং অবশিষ্ট অর্থ যথাযথ পরিশোধের জন্য কোনো তফসিলি ব্যাংক হইতে গ্যারান্টি দাখিল করিতে পারিবেন:
আরও শর্ত থাকে যে, যদি কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে আপিল কর্তৃপক্ষ এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, দাবিকৃত শুল্ক ও কর অথবা আরোপিত জরিমানা জমা প্রদান আপিলকারীর জন্য অযথা কষ্টের কারণ হইবে, তাহা হইলে উহা বিনাশর্তে অথবা তাহার বিবেচনায় উপযুক্ত শর্ত আরোপ সাপেক্ষে উক্ত জমা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা হইতে আপিলকারীকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন:
আরও শর্ত থাকে যে, ধারা ৩২ অনুযায়ী উক্ত ব্যক্তি, উক্ত ধারার অধীন অবহিত করা হইয়াছে, কিন্তু পরিশোধিত হয় নাই এইরূপ কোনো শুল্ক বা করের উপর ধার্যকৃত সুদ, এই আইনের অধীন কোনো আপিল দাখিল বা নিষ্পন্নাধীন বিবেচনা ব্যতিরেকে, পরিশোধের জন্য দায়ী থাকিবেন, যদি না আপিলে ইহা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয় যে, উক্ত অপরিশোধিত পরিমাণ যথাযথভাবে আরোপিত হয়নি।
(২) যদি কোনো আপিল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে, উপরি- উক্ত শুল্ক ও কর বা জরিমানার সম্পূর্ণ অথবা উহার যে কোনো অংশ আরোপযোগ্য ছিল না, তাহা হইলে যথাযথ কর্মকর্তা আপিলকারীকে উক্ত অর্থ অথবা, ক্ষেত্রমত, অংশবিশেষ ফেরত প্রদান করিবেন।
২২৪। বোর্ডের নথিপত্র, ইত্যাদি তলব এবং পরীক্ষা করিবার ক্ষমতা
(১) বোর্ড স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারার নথিপত্র, উহাতে বোর্ডের অধস্তন কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত অথবা আদেশের বৈধতা বা ন্যায্যতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হইবার উদ্দেশ্যে, তলব এবং পরীক্ষা করিতে পারিবে এবং তদ্সম্পর্কে যেরূপ বিবেচনা করিবে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অধিকতর মূল্যের পণ্য বাজেয়াপ্তকরণের কোনো আদেশ অথবা বাজেয়াপ্তকরণের পরিবর্তে জরিমানা বৃদ্ধির কোনো আদেশ অথবা কোনো অর্থদণ্ড আরোপের বা বৃদ্ধির কোনো আদেশ অথবা অনারোপিত বা কম আরোপিত কোনো শুল্ক ও কর পরিশোধে বাধ্য করিয়া কোনো আদেশ, উহা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারেন এইরূপ ব্যক্তিকে উহার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া এবং ব্যক্তিগতভাবে অথবা তাহার নিকট হইতে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কৌঁসুলী বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া, প্রদান করা যাইবে না।
(২) কোনো কাস্টমস কর্মকর্তার কোনো সিদ্ধান্ত অথবা আদেশ সম্পর্কিত কার্যধারার নথিপত্র উক্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশ প্রদানের ২ (দুই) বৎসর অতিবাহিত হইবার পর উপ- ধারা (১) এর অধীন তলব এবং পরীক্ষা করা যাইবে না।
২২৫। আপিল ট্রাইব্যুনাল
(১) সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে, এই আইনে আপিল ট্রাইব্যুনালের উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কর্তব্য পালনের জন্য কাস্টমস, এক্সাইজ এবং মূল্য সংযোজন কর আপিল ট্রাইব্যুনাল নামে একটি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে।
(২) আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্য পদে নিম্নরূপ কোনো ব্যক্তি নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন, যথা:
(ক) বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কাস্টমস এন্ড এক্সাইজ) ক্যাডার এ নিয়োগপ্রাপ্ত বোর্ডের সদস্য পদে অথবা চলতি দায়িত্বে বোর্ডের সদস্য পদে কর্মরত রহিয়াছেন; অথবা
২[ (খ) বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কাস্টমস এন্ড এক্সাইজ) ক্যাডার এ নিয়োগপ্রাপ্ত কমিশনার বা কমিশনার চলতি দায়িত্বে বা সমপদমর্যাদার অন্য কোনো পদে কমপক্ষে ১ (এক) বৎসর যাবৎ চাকরি করিতেছেন বা করিয়াছেন; অথবা ]
(গ) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদে কর্মরত রহিয়াছেন।
(৩) সরকার আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্যগণের মধ্য হইতে একজনকে উহার সভাপতি নিয়োগ করিবে, যাহার কাস্টমস এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা রহিয়াছে।
২২৬। আপিল ট্রাইব্যুনালের নিকট আপিল
(১) যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিম্নের যে কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) ধারা ৯৪ বা ধারা ১১৯ এর অধীন প্রদত্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশ ব্যতীত কমিশনার অব কাস্টমস, বা কমিশনার অব কাস্টমস (বন্ড) বা ডিরেক্টর জেনারেল (শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ) বা কমিশনার অব কাস্টমস এর সমপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক ন্যায়নির্ণয়ন কর্তৃপক্ষ হিসাবে প্রদত্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশ; অথবা
(খ) নির্ধারিত তারিখের অব্যবহিত পূর্বে ধারা ২২০ অথবা ২২১ এর অধীন কমিশনার অব কাস্টমস (আপিল) কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ।
(২) কমিশনার অব কাস্টমস যদি মনে করেন যে, কমিশনার অব কাস্টমস (আপিল) কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের অব্যবহিত পূর্বে ধারা ২২০ বা ২২১ এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ বৈধ বা ন্যায্য নহে, তাহা হইলে তিনি যথাযথ কর্মকর্তাকে তাহার পক্ষে উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৩) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইবে সেই আদেশ যে তারিখে কমিশনার অব কাস্টমস অথবা আপিলকারী অন্য পক্ষ কর্তৃক গৃহীত হয় সেই তারিখ হইতে ৩[ ৯০ (নব্বই) দিনের ] মধ্যে আপিল দায়ের করিতে হইবে।
(৪) যে পক্ষের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইয়াছে সেই পক্ষ আপিল দায়েরের নোটিশ প্রাপ্তির ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিবসের মধ্যে, যদি সংশ্লিষ্ট আদেশ বা উহার কোনো অংশের বিরুদ্ধে নিজেও আপিল পেশ করিয়া থাকেন তাহা সত্ত্বেও, বিধি দ্বারা, নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রতিপাদন করিয়া আপিলাধীন আদেশের যে কোনো অংশের বিরুদ্ধে একখানি প্রতি- আপত্তির স্মারক দাখিল করিতে পারিবেন এবং উক্ত স্মারক ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক উপ- ধারা (৩) এর অধীন দায়েরকৃত আপিল হিসাবে নিষ্পত্তি করা হইবে।
(৫) আপিল ট্রাইব্যুনাল উপ- ধারা (৩) বা (৪) এ উল্লিখিত সময়সীমা অতিবাহিত হইবার পর সভাপতি আরো ৪[ ৬০ (ষাট) দিনের ] পর্যন্ত বর্ধিত সময়ের মধ্যে কোনো আপিল দায়ের অথবা প্রতি- আপত্তির স্মারক দাখিল করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন, যদি তিনি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, যদি ট্রাইব্যুনাল এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত সময়ের মধ্যে উহা উপস্থাপন না করিবার যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে।
(৬) আপিল ট্রাইব্যুনালের নিকট আপিল, এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরম এবং পদ্ধতিতে, প্রতিপাদন করিয়া দায়ের করিতে হইবে এবং উহার সহিত দাবিনামা, আমদানি শুল্ক ও কর এবং সুদ বা জরিমানা আরোপের তারিখ নির্বিশেষে নির্ধারিত তারিখে বা তৎপর দায়েরকৃত আপিলের ক্ষেত্রে নিম্নরূপহারে ফি সংযুক্ত করিতে হইবে, যথা:-
(ক) আপিল সংশ্লিষ্ট মামলায় কোনো কাস্টমস কর্মকর্তা কর্তৃক আরোপিত আমদানি শুল্ক ও কর ও সুদ এবং দাবিকৃত জরিমানার পরিমাণ যে ক্ষেত্রে ১ (এক) লক্ষ টাকা বা উহার কম হয়, সেই ক্ষেত্রে ফি এর হার ৩০০ (তিনশত) টাকা;
(খ) যে ক্ষেত্রে উক্তরূপ আরোপিত আমদানি শুল্ক ও কর ও সুদ এবং দাবিকৃত জরিমানার পরিমাণ ১ (এক) লক্ষ টাকার অধিক হয়, সেই ক্ষেত্রে ফি এর হার ১২০০ (এক হাজার দুই শত) টাকা:
তবে শর্ত থাকে যে, কমিশনারের পক্ষ হইতে দায়েরকৃত আপিল বা প্রতি- আপত্তি স্মারকের ক্ষেত্রে কোনো ফি প্রদেয় হইবে না।
(৭) আপিল প্রাপ্তির তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর সময়ের মধ্যে আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আপিল নিষ্পত্তি হইবে।
(৮) উপ- ধারা (৭) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি না হইলে, আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আপিলটি মঞ্জুর করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
২২৭। আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ
(১) আপিলের সহিত সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া আপিল ট্রাইব্যুনাল যে সিদ্ধান্ত বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হইয়াছে উহা বহাল রাখিয়া, পরিবর্তন করিয়া অথবা বাতিল করিয়া যেরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে ইহার উপর সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে অথবা যে কর্তৃপক্ষ উক্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশটি প্রদান করিয়াছে সেই কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল কর্তৃপক্ষ যেরূপ সঙ্গত বিবেচনা করিবে সেইরূপ নির্দেশসহ মামলাটি প্রয়োজনমত অধিকতর সাক্ষ্য গ্রহণপূর্বক নূতনভাবে ন্যায়নির্ণয়ন অথবা সিদ্ধান্তের জন্য ফেরত (remand) প্রদান করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত কোনো আদেশের নথিপত্র হইতে পরিদৃষ্ট কোনো ভুল সংশোধনের উদ্দেশ্যে আপিল ট্রাইব্যুনাল আদেশের তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসরের মধ্যে যে কোনো সময়ে উক্ত আদেশ সংশোধন করিতে পারিবে এবং কমিশনার অব কাস্টমস অথবা আপিলের অন্য পক্ষ কর্তৃক কোনো ভুল ইহার নজরে আনয়ন করা হইলে উক্তরূপ সংশোধন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, শুল্ক বৃদ্ধি করিতে অথবা প্রত্যর্পণ হ্রাস করিতে অথবা অন্য পক্ষের দায় বৃদ্ধি করিতে পারে আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক এইরূপ কোনো সংশোধনী উক্ত পক্ষকে নোটিশ প্রদান ও ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া করা যাইবে না ।
(৩) আপিল ট্রাইব্যুনাল এই ধারায় প্রদত্ত প্রত্যেক আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট কমিশনার অব কাস্টমস এবং আপিলের অন্য পক্ষকে প্রেরণ করিবে।
(৪) ধারা ২৩০ এ যেরূপ বিধৃত রহিয়াছে সেইরূপ ব্যতীত ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আপিলের উপর প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
৫[ (৫) আপিলকারী, বিচারাধীন কোনো আপিল মামলায়, আপিলাধীন কোনো আদেশ স্থগিত চাহিয়া অথবা কোনো অন্তবর্তী আদেশ চাহিয়া আপিল ট্রাইব্যুনালের নিকট আবেদন করিতে পারিবে এবং সে মোতাবেক আপিল ট্রাইব্যুনাল উক্ত আবেদন বিবেচনা করত উহার উপর আইনানুগ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে। ]
২২৮। আপিল ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতি
(১) আপিল ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা এবং দায়িত্ব সভাপতি কর্তৃক ইহার সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চসমূহ কর্তৃক প্রয়োগ এবং পালন করা হইবে।
(২) উপ-ধারা (৩) এবং উপ- ধারা (৪) এর বিধান সাপেক্ষে, একটি বেঞ্চ যে কোনো দুইজন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে।
(৩) অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে শুল্কের হার বা শুল্কায়নের জন্য পণ্যের মূল্য বিষয়ক কোনো প্রশ্নের নিষ্পত্তি সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত অথবা আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিলের শুনানি সভাপতি কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে গৃহীত হইবে এবং এইরূপ বেঞ্চের সদস্য সংখ্যা দুইজনের নিম্নে হইবে না।
(৪) আপিল ট্রাইব্যুনালের সভাপতি বা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো সদস্য, তিনি যে বেঞ্চের সদস্য সেই বেঞ্চে বরাদ্দকৃত নিম্নবর্ণিত কোনো মামলা এককভাবে নিষ্পত্তি করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) ধারা ২০৫ অনুযায়ী পণ্যের মালিককে পণ্য বাজেয়াপ্তকরণের পরিবর্তে বিমোচন জরিমানা প্রদানের সুযোগ ব্যতীত বাজেয়াপ্তকৃত পণ্যের মূল্য এক লক্ষ টাকার অধিক না হইলে;
(খ) শুল্ক হার নির্ধারণ বা শুল্কায়নের জন্য মূল্য নিরূপণের সহিত জড়িত কোনো প্রশ্ন ব্যতীত অন্য কোনো বিরোধযুক্ত মামলা যে ক্ষেত্রে বিচার্য বিষয় অথবা বিচার্য বিষয়ের প্রসঙ্গে হয় সেইক্ষেত্রে জড়িত শুল্কের পার্থক্য বা জড়িত শুল্কের পরিমাণ এক লক্ষ টাকার অধিক না হইলে; অথবা
(গ) জড়িত জরিমানার পরিমাণ এক লক্ষ টাকার অধিক না হইলে।
(৫) সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বেঞ্চের সদস্যগণের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য দেখা দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইবে; কিন্তু যদি সদস্যগণ সমভাবে বিভক্ত হন, তাহা হইলে তাহারা মতপার্থক্যের বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ করিয়া উহা সভাপতির নিকট প্রেরণ করিবেন, যিনি স্বয়ং বিষয়টির শুনানি গ্রহণ করিবেন অথবা ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য এক অথবা একাধিক সদস্যের শুনানির জন্য উহা প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের যে সকল সদস্য মামলার প্রারম্ভিক পর্যায়ে বা পরবর্তীতে শুনানি গ্রহণ করিয়াছেন তাহাদের সকলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিমত অনুসারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইবে।
(৬) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, ক্ষমতার প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালন সম্পর্কিত সকল বিষয়ে, আপিল ট্রাইব্যুনাল ও বেঞ্চসমূহের অধিবেশনের স্থানসহ কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবার ক্ষমতা উক্ত ট্রাইব্যুনালের থাকিবে।
(৭) নিম্নবর্ণিত বিষয়ে দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন একটি দেওয়ানি আদালত যেরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারে আপিল ট্রাইব্যুনালও এই ধারার অধীন সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) উদ্ঘাটন এবং পরিদর্শন;
(খ) কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং তাহাকে শপথ বাক্য পাঠ করাইয়া পরীক্ষা করা;
(গ) হিসাব বহি এবং অন্যান্য দলিলপত্র উপস্থাপনে বাধ্য করা; এবং
(ঘ) কমিশন জারি করা।
(৮) আপিল ট্রাইব্যুনালের কার্যধারা দণ্ডবিধির ধারা ১৯৩ ও ২২৮ এর মর্মানুযায়ী এবং ধারা ১৯৬ এর উদ্দেশ্যে বিচার বিভাগীয় কার্যধারা হিসাবে গণ্য করা হইবে এবং আপিল ট্রাইব্যুনাল ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯৫ এবং ষষ্ঠবিংশ অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে একটি দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য হইবে।
২২৯। হাইকোর্ট বিভাগে আপিল
৬[ ধারা ২২৭ ] এর অধীন কোনো আদেশ জারির তারিখ হইতে ৯০ (নব্বই) দিবসের মধ্যে কমিশনার অব কাস্টমস অথবা অন্য পক্ষ উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।
২৩০। অন্যূন দুইজন বিচারক কর্তৃক হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি গ্রহণ
(১) হাইকোর্ট বিভাগের অন্যূন দুইজন বিচারক সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ধারা ২২৯ এর অধীন দায়েরকৃত আপিলের শুনানি গ্রহণ করিবে।
(২) উপ- ধারা (১) এর অধীন কোনো আপিলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি বিচারকগণের মধ্যে কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না হয়, তাহা হইলে বিচারকগণ আইনের যে বিষয়ে মতপার্থক্য হইবে তাহা বিবৃত করিবেন এবং অতঃপর হাইকোর্ট বিভাগের অন্য এক বা একাধিক বিচারক কর্তৃক উক্ত বিষয়ের উপর শুনানি গ্রহণ করা হইবে এবং বিষয়টি সম্পর্কে প্রথম শুনানি গ্রহণকারী বিচারকগণসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকগণের অভিমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
২৩১। আপিলের উপর হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত
(১) যে ক্ষেত্রে ধারা ২২৯ এর অধীন আপিল দায়ের করা হইবে সেইক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ উহাতে উত্থাপিত বক্তব্যসমূহের এবং উহার সহিত যেমন প্রয়োজনীয় গণ্য হয় তেমন আনুষঙ্গিক অন্যান্য বক্তব্যসমূহের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে এবং উহার উপর বিচারাদেশ প্রদান করিবে।
(২) হাইকোর্ট বিভাগ ইহার বিচারাদেশে আপিলের কোনো পক্ষের উপর কোনো ব্যয়ের বিষয়ে রায় প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) উপ- ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত বিচারাদেশের একটি কপি উক্ত বিভাগের কোনো কর্মকর্তার সিল এবং স্বাক্ষরযুক্ত করিয়া আপিল ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হইবে।
২৩২। হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করা সত্ত্বেও পাওনা অর্থ আদায়, ইত্যাদি
হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করা সত্ত্বেও ধারা ২২৮ এর উপ- ধারা (১) এ প্রদত্ত আদেশের ফলে সরকারি পাওনা অর্থ উক্তরূপ আদেশ অনুযায়ী প্রদেয় হইবে।
২৩৩। কপির জন্য ব্যয়িত সময় হিসাব বহির্ভূত
আপিল অথবা আবেদনের জন্য এই অধ্যায়ে নির্ধারিত সময়সীমা গণনার ক্ষেত্রে যে দিন আদেশের নোটিশ জারি করা হয় এবং যদি আপিলকারী অথবা আবেদনকারী পক্ষকে আদেশের নোটিশ জারি করিবার সময়ে আদেশের কপি সরবরাহ না করা হইয়া থাকে, তাহা হইলে উক্ত আদেশের কপি সংগ্রহ করিতে যে সময়ের প্রয়োজন হয় সেই সময় গণনা বহির্ভূত থাকিবে।
২৩৪। ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিতি
(১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আইনের অধীন ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হইতে বাধ্য হওয়া ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে যখন কোনো ব্যক্তি এই আইন বা বিধির অধীন কোনো কার্যধারা উপলক্ষ্যে কোনো কাস্টমস কর্মকর্তা, আপিল কর্তৃপক্ষ, বোর্ড বা সরকারের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার অধিকারী অথবা উপস্থিত হইতে বাধ্য হন, তখন তিনি উক্ত কার্যধারা উপলক্ষে এতদুদ্দেশ্যে তাহার নিকট হইতে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির কোনো আত্মীয় বা তদকর্তৃক নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি অথবা কোনো আদালতে ওকালতি করিবার অধিকারী কোনো আইনজীবী বা এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিতে সংজ্ঞায়িত এবং লাইসেন্সকৃত কোনো কাস্টমস পরামর্শক বা Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (President’s Order No. 2 of 1973)] এর Article 2(1)(b) এর মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত চাটার্ড এ্যাকাউন্টেন্ট অথবা কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস আইন, ২০১৮ এর মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট যিনি উপ-ধারা (২) এর অধীন অযোগ্য হন নাই, এর মাধ্যমে উপস্থিত হইতে পারিবেন।
(২) সরকারি চাকরি হইতে বরখাস্তকৃত কোনো ব্যক্তি উপ- ধারা (১) এর অধীন কোনো ব্যক্তিকে প্রতিনিধিত্ব করিতে পারিবেন না; এবং যদি কোনো আইনজীবী বা কাস্টমস পরামর্শক বা Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (President’s Order No. 2 of 1973)] এর Article 2(1)(b) এর মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত চাটার্ড এ্যাকাউন্টেন্ট অথবা কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস আইন, এর মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত চাটার্ড এ্যাকাউন্টেন্ট অথবা কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস আইন, ২০১৮ এর মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট তিনি যে পেশার অংশ সেই পেশার সদস্যদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক, কোনো কাস্টমস কার্যধারা সংশ্লিষ্ট অসদাচরণে দোষী সাব্যস্ত হন অথবা যদি অন্য কোনো ব্যক্তি কমিশনার অব কাস্টমস কর্তৃক উক্ত অসদাচরণে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহা হইলে কমিশনার অব কাস্টমস এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন যে, উক্ত সময় হইতে তিনি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করিবার অযোগ্য হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে,
(ক) যুক্তিসঙ্গত শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে উক্ত নির্দেশ জারি করা যাইবে না;
(খ) কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে উক্ত নির্দেশ জারি করা হইলে তিনি উহা প্রাপ্তির তারিখ হইতে ১ (এক) মাসের মধ্যে নির্দেশটি বাতিল করিবার জন্য বোর্ডের নিকট আপিল করিতে পারিবেন; এবং
(গ) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত নির্দেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ১ (এক) মাস পর্যন্ত অথবা আপিল দায়ের করা হইলে উহা নিষ্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত উক্তরূপ কোনো নির্দেশ কার্যকর হইবে না।
২৩৫। সরকার কর্তৃক নথিপত্র, ইত্যাদি তলব এবং পরীক্ষা করিবার ক্ষমতা
সরকার স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া অথবা কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে এই আইন বা বিধির অধীন কোনো আদেশ সংক্রান্ত কার্যধারার নথিপত্র, আদেশ প্রদানের ১ (এক) বৎসরের মধ্যে উক্ত আদেশের বৈধতা বা ন্যায্যতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট হওয়ার উদ্দেশ্যে তলব ও পরীক্ষা করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ পরীক্ষান্তে দৃশ্যত প্রতীয়মান কোনো ভুল বা অশুদ্ধতা সংশোধন করিয়া তদ্সম্পর্কে উহা যেরূপ বিবেচনা করে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, অধিকতর মূল্যের পণ্য বাজেয়াপ্তকরণের কোনো আদেশ, বা বাজেয়াপ্তকরণের পরিবর্তে জরিমানা বৃদ্ধির কোনো আদেশ, অথবা কোনো অর্থদণ্ড আরোপের কোনো আদেশ বা অধিকতর পরিমাণ শুল্ক পরিশোধের কোনো আদেশ, উহা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারেন এইরূপ ব্যক্তিকে উহার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া এবং ব্যক্তিগতভাবে অথবা তাহার নিকট হইতে যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কৌঁসুলী বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া, প্রদান করা যাইবে না।
১ অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ১৫৬ ধারাবলে ধারা ২২৩ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “শুল্ক ও করের ১০ (দশ) শতাংশ অথবা আরোপিত জরিমানার ১০ (দশ) শতাংশ” শব্দগুলি, সংখ্যাগুলি ও বন্ধনীগুলির পরিবর্তে “শুল্ক ও করের ১০ (দশ) শতাংশ বা যেক্ষেত্রে শুল্ক ও কর প্রযোজ্য নয় সেক্ষেত্রে জরিমানার ১০ (দশ) শতাংশ” শব্দগুলি, সংখ্যাগুলি ও বন্ধনীগুলি প্রতিস্থাপিত।
২ অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ১৫৭ ধারাবলে ধারা ২২৫ এর উপ-ধারা (২) এর নিম্নরূপ দফা (খ) এর পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত।
[ (খ) বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কাস্টমস এন্ড এক্সাইজ) ক্যাডার এ নিয়োগপ্রাপ্ত কমিশনার বা সমপদমর্যাদার অন্য কোনো পদে কমপক্ষে ১ (এক) বৎসর যাবৎ চাকরি করিতেছেন বা করিয়াছেন; অথবা ]
৩ অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ১৫৮(ক) ধারাবলে ধারা ২২৬ উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত “৩ (তিন) মাসের” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলির পরিবর্তে “৯০ (নব্বই) দিনের” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত।
৪ অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ১৫৮(খ) ধারাবলে ধারা ২২৬ উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত “০২ (দুই) মাস” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলির পরিবর্তে “৬০ (ষাট) দিন” সংখ্যা, বন্ধনী ও শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত।
৫ অর্থ আইন, ২০২৪ এর ৯৮ ধারাবলে ধারা ২২৭ এর নিম্নরূপ উপ-ধারা (৫) এর পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত।
[ (৫) আপিলকারী, বিচারাধীন কোনো আপিল মামলায়, আপিলাধীন কোনো আদেশ স্থগিতাদেশ চাহিয়া আপিল ট্রাইব্যুনালের নিকট আবেদন করিতে পারিবে এবং সে মোতাবেক আপিল ট্রাইব্যুনাল উক্ত আবেদন বিবেচনা করত উহার উপর স্থগিতাদেশ প্রদান করিতে পারিবেন। ]
৬ অর্থ আইন, ২০২৪ এর ৯৯ ধারাবলে ধারা ২২৯ উল্লিখিত “ধারা ২২৮” শব্দ ও সংখ্যার পরিবর্তে “ধারা ২২৭” শব্দ ও সংখ্যা প্রতিস্থাপিত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে উল্লিখিত কোনো কিছু যদি সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত আইন, বিধি, প্রজ্ঞাপন ও আদেশের সহিত সাংঘর্ষিক হয় সেইক্ষেত্রে উক্ত ইস্যুকৃত আইন, বিধি, প্রজ্ঞাপন ও আদেশই প্রাধান্য পাবে।