কাস্টমস আইন ২০২৩
ধারা ২৭ - শুল্কায়নের উদ্দেশ্যে পণ্যের কাস্টমস মূল্য (assessable value)
১[(১) কোনো পণ্যের উপর কাস্টমস শুল্ক উহার মূল্যের ভিত্তিতে আরোপণীয় হইলে, সেই মূল্য হইবে প্রকৃত মূল্য অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে পরিশোধিত অথবা পরিশোধযোগ্য মূল্য, অথবা উক্ত মূল্যের নিকটতম নিরূপণযোগ্য সমতুল্য মূল্য, যে মূল্যে সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রক্রিয়ায় উক্ত পণ্য অথবা অনুরূপ পণ্য আমদানির সময় এবং স্থানে অথবা, ক্ষেত্রমত, রপ্তানির সময় এবং স্থানে অর্পণের উদ্দেশ্যে সাধারণত বিক্রয় করা হয় অথবা বিক্রয়ের প্রস্তাব করা হয়, যেখানে বিক্রেতা এবং ক্রেতার মধ্যে একে অন্যের ব্যবসায়ে কোন স্বার্থ থাকে না এবং বিক্রয় অথবা বিক্রয় প্রস্তাবে মূল্যই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হয়।
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সাপেক্ষে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিমালা অনুসারে নিরূপিত হইবে। ]
ব্যাখ্যা।- এই উপ- ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “আমদানির স্থান” অর্থ কাস্টমস বন্দর, কাস্টমস বিমানবন্দর অথবা কাস্টমস স্টেশন, যেখানে ধারা ৮৩ এর অধীন পণ্য ঘোষণা নিবন্ধিত হয়।
(৩) কোনো রপ্তানিকৃত পণ্য বা অনুরূপ পণ্য রপ্তানির সময় যে মূল্যে সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক অবস্থাধীনে সাধারণ বাণিজ্য প্রক্রিয়ায় বিক্রয় বা বিক্রয়ের প্রস্তাব করা হয়, সেই মূল্য, বাংলাদেশের যে কাস্টমস স্টেশনের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানি হইবে সেই কাস্টমস স্টেশন পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ, হইবে রপ্তানিকৃত পণ্যের কাস্টমস মূল্য:
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোনো ২[রপ্তানিতব্য] পণ্যের রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করিতে পারিবে, যাহা উক্ত নির্ধারিত মূল্য উক্ত পণ্যের ঘোষিত মূল্য অপেক্ষা অধিক হওয়ার ক্ষেত্রে, উক্ত পণ্যের কাস্টমস মূল্য নিরূপণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইবে।
(৪) কোনো আমদানিকৃত বা ৩[রপ্তানিতব্য] পণ্যের মূল্য হিসাব করিবার জন্য মুদ্রার বিনিময় হার হইবে, যে মাসে ধারা ৮৩ এর অধীন পণ্য ঘোষণা নিবন্ধিত হয় উহার পূর্ববর্তী মাসের তৃতীয় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের পূর্বের ৩০ (ত্রিশ) দিবস সময়ে বিদ্যমান গড় বিনিময় হার এবং উক্ত হার বোর্ড কর্তৃক অথবা এতদুদ্দেশ্যে বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারণ করা হইবে।
(৫) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, মূল্য ভিত্তিক (ad valorem) কাস্টমস শুল্ক আরোপযোগ্য হয় এমন কোনো আমদানিকৃত অথবা রপ্তানিকৃত পণ্যের উপর কাস্টমস শুল্ক আরোপণের উদ্দেশ্যে ট্যারিফ মূল্য অথবা ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যেই ক্ষেত্রে আমদানিকৃত বা রপ্তানিকৃত কোনো পণ্যের ঘোষিত মূল্য এই উপ ধারার অধীনে নির্ধারিত ট্যারিফ মূল্য অথবা ন্যূনতম মূল্যের চেয়ে অধিক হয়, সেই ক্ষেত্রে উক্ত পণ্যের কাস্টমস শুল্ক আরোপিত হইবে পণ্যটির ঘোষিত মূল্যের ভিত্তিতে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,-
(ক) “বিনিময় হার” বলিতে বাংলাদেশি মুদ্রা বৈদেশিক মুদ্রায় বা বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তরের জন্য বিদ্যমান বাজার হার অনুযায়ী নির্ধারিত বিনিময় হারকে বুঝাইবে;
(খ) “বৈদেশিক মুদ্রা” এবং “বাংলাদেশ মুদ্রা” বলিতে Foreign Exchange Regulation Act, 1947 (Act No. VII of 1947) এ যথাক্রমে “foreign currency” এবং “Bangladesh currency” যেই অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে বুঝাইবে।
১ অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ১৪৪(ক) ধারাবলে ধারা ২৭ এর নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) ও (২) এর পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত।
[ (১) কোনো পণ্যের উপর কাস্টমস শুল্ক উহার মূল্যের ভিত্তিতে আরোপণীয় হইলে, এই ধারার অন্যান্য বিধান অনুযায়ী নিরূপিত উক্ত পণ্যের মূল্যই হইবে কাস্টমস মূল্য।
(২) এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি অনুসারে যদি কোনো আমদানিকৃত পণ্যের উপর কাস্টমস শুল্ক উহার মূল্যের ভিত্তিতে আরোপণীয় হয়, তাহা হইলে সেই মূল্য হইবে বিনিময় মূল্য অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে পরিশোধিত বা পরিশোধযোগ্য মূল্য বা উক্ত মূল্যের নিকটতম নিরূপণযোগ্য সমতুল্য মূল্য যে মূল্যে সম্পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রক্রিয়ায় উক্ত পণ্য অথবা অনুরূপ পণ্য আমদানির সময় এবং স্থানে অর্পণের উদ্দেশ্যে সাধারণত বিক্রয় করা হয় বা বিক্রয়ের প্রস্তাব করা হয়, যেখানে বিক্রেতা এবং ক্রেতার মধ্যে একে অন্যের ব্যবসায়ে কোনো স্বার্থ থাকে না এবং বিক্রয় বা বিক্রয়ের প্রস্তাবই মূল্য নিরূপণের একমাত্র বিবেচ্য বিষয় হয়। ]
২ অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ১৪৪(খ) ধারাবলে ধারা ২৭ এর উপ-ধারা (৩) এর শর্তাংশে উল্লিখিত “রপ্তানিকৃত” শব্দের পরিবর্তে “রপ্তানিতব্য” শব্দ প্রতিস্থাপিত।
৩ অর্থ অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ১৪৪(গ) ধারাবলে ধারা ২৭ এর উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত “রপ্তানিকৃত” শব্দের পরিবর্তে “রপ্তানিতব্য” শব্দ প্রতিস্থাপিত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে উল্লিখিত কোনো কিছু যদি সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত আইন, বিধি, প্রজ্ঞাপন ও আদেশের সহিত সাংঘর্ষিক হয় সেইক্ষেত্রে উক্ত ইস্যুকৃত আইন, বিধি, প্রজ্ঞাপন ও আদেশই প্রাধান্য পাবে।